বেফাক পুনর্গঠনের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

বর্তমান বিরাজমান বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা বোর্ড-বেফাকের পুনর্গঠন দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

আজ শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা সমূহের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ (বেফাক)-এর দায়িত্বশীল ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি অনাকাঙ্খিত বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে এবং একের পর এক গোপনীয় ফোনালাপ প্রচার করে পরিবেশকে এতটাই নোংরা করে তোলা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে সম্মানিত ওলামায়ে কেরামের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।

তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরামের প্রতি সাধারণ জনগণের যে একটি আস্থা ও ভক্তি-শ্রদ্ধার জায়গা ছিল, তা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। যা সামগ্রিকভাবে দেশের সকল ইসলামপন্থীদের জন্য অশুভ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দ্রুততার সঙ্গে সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হবেন। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, পরিস্থিতি দিন দিন আরো জটিল ও ঘোলাটে হচ্ছে।

বেফাক সংশ্লিষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে সারা দেশের ওলামা এবং তালাবারা জড়িয়ে পড়েছে। যেসব মুরুব্বিগণ বেফাক পরিচালনা করছেন, তাদের উচিত পরিস্থিতির বাস্তবতা ও নাজুকতা উপলব্ধি করে সঙ্কট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগী হয়ে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

তারা যদি দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না হন তা হলে এই ঐতিহ্যবাহী মারকাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং একে একটি সত্যিকারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে আমরা দ্রুত দেশের সচেতন ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে বেফাক পুনর্গঠনের সুনির্দৃষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরব।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেফাক মহাসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিক ফোনালাপের অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।

আরও খবর