রিকশাচালক থেকে কোটিপতি ছাতকের এখলাছ খান

সুনামগঞ্জের ছাতকে এখলাছ খান নামে এক রিকশাচালক এখন শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি।

পৌর শহরের বৌলাগ্রামের বাসিন্দা এখলাছ কিছুদিন আগেও রিকশা চালিয়েছেন। মুক্তিরগাঁওয়ের ফখর উদ্দিনের গ্যারেজের রিকশাও তিনি চালিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও আশুলিয়ায় তার বিঘা বিঘা জমি রয়েছে। ছাতক শহরের মণ্ডলীভোগ এলাকায় আলিশান বহুতল ভবন। চলাফেরায় দামি গাড়ি, ঢাকা-চিটাগং যাতায়াত চলে বিমানে। হাজার টন চুনা পাথর আমদানিসহ তার রয়েছে ভূমি ব্যবসার ভূমিখেকো সিন্ডিকেট চক্র। এখলাছ খানের বালু-পাথরের ব্যবসাও রয়েছে।

২০০৩ সালের আগে ছাতকে রিকশা চালিয়েছেন। হঠাৎ রিকশা ছেড়ে বিভিন্ন ব্যবসায় টাকা লগ্নি করতে থাকেন। এই এখলাস খানের অপতৎপরতায় অনেক মূলধারার ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে ছিটকে পড়েছেন।

লোক দেখানো বেশ কিছু ব্যবসা শুরু করে এ সময় তিনি শহরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মুনাফা হচ্ছে বলে গল্পগুজব শোনাতেন। বর্তমানে আলোচিত প্রতারক করোনা টেস্ট কেলেংকারী সাহেদ মালামাল নিয়ে দুই কোটি টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেন এখলাস খান।

ব্যবসায়ী সম্রাট চৌধুরীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এই ক’দিন আগেও এখলাছ খান রিকশা চালিয়েছেন। রাতারাতি কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক তিনি হয়েছেন, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করুক-দাবি জানান ছাতকবাসী।

এখলাছ খানের শ্বশুরবাড়িতে প্রচুর জায়গা-জমি ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে, যা অবাক করার মতো। দেশ তোলপাড় করা ধূর্ত প্রতারক সাহেদ ওরফে শাহেদ করিম ও তার সঙ্গী মাসুদ পারভেজ ছাতকে আলোচিত এখলাছ খানের কাছ থেকে প্রতারণা করে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

পাওনা টাকা চাইতে ঢাকায় গেলে এখলাস খানের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখান সাহেদ এমন সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রোববার এ ব্যাপারে মামলা করার জন্য ছাতক থানায় যোগাযোগ করেন এখলাছ খান। ছাতক থানা পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়ী এখলাছের লিখিত অভিযোগে ভুল থাকায় সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছে।

এখলাছ খান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ছাতক বাজারে পরিচিত। এ বিষয়ে আমি বুধবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছি।

আরও খবর